আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর এক নজরে – ২৩ নভেম্বর ২০২৫

 


আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর এক নজরে – ২৩ নভেম্বর ২০২৫

দেশজুড়ে টানা ভূমিকম্পের ধাক্কার পর ভবনপরিদর্শন ও দুর্যোগপ্রস্তুতি, আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা, চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি অপারেটর নিয়ে বিতর্ক, নির্বাচনকে ঘিরে টানটান রাজনৈতিক অঙ্গন—সব মিলিয়ে দিনটি ছিল ঘটনাবহুল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গাজা ও ইউক্রেন ইস্যুতে কূটনৈতিক নড়াচড়া, ইউরোপে সহিংসতা ও সামাজিক ইস্যুতে জনতার মিছিল, আর ক্রীড়া ও বিনোদনে একাধিক আলোচিত ঘটনাই আজকের দিনের চিত্র স্পষ্ট করেছে।


জাতীয় সংবাদ

১. টানা ভূমিকম্পের পর ‘বড় ধাক্কার’ শঙ্কা, প্রস্তুতি নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা

গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চার দফা ভূমিকম্প হওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা আবারও সতর্ক করছেন—বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে আছে। ঢাকায় প্রথম আলোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ভূতাত্ত্বিক ও প্রকৌশলীরা বলেন, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে ভূমিকম্প সহনশীল ভবন, জরুরি সাড়াদান এবং পরিকল্পিত নগরায়ণে ঘাটতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে।

বক্তারা জানান, অতীত গবেষণা ও সাম্প্রতিক কম্পন—দুটিই দেখাচ্ছে যে সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থানের কারণে এ অঞ্চল যেকোনো সময় বড় ভূমিকম্পের মুখোমুখি হতে পারে। তবু বহু পুরোনো ভবন, অপরিকল্পিত গলিপথ, সংকীর্ণ সড়ক এবং দুর্বল সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন এগোয় ধীরগতিতে।

বিশেষজ্ঞদের মত, এখনই যদি ভবন শক্তিশালীকরণ, ওপেন স্পেস সংরক্ষণ, জরুরি মহড়া ও গণসচেতনতার ওপর জোর না দেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তী বড় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির দায় কারও এড়ানো সম্ভব হবে না।


২. ভূমিকম্পের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের হলত্যাগে আতঙ্ক

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। আজ থেকে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হল ভবনগুলোতে বিস্তারিত পরিদর্শন শুরু করেছে। প্রথম দিন হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ও বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল পরিদর্শন করা হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পুরোনো হলগুলো পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করে ঝুঁকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভূমিকম্পের পর কিছু জায়গায় দেয়ালে ফাটল দেখা যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের একাংশ ইতোমধ্যে হল ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাসা বা নিজ এলাকায় চলে গেছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধু ‘টেম্পোরারি’ আশ্বাস নয়, ভবনগুলোর প্রকৃত ঝুঁকি কতটা, সে বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য তারা জানতে চান। আদৌ যদি অবকাঠামো নিরাপদ না হয়, তবে বিকল্প আবাসিক ব্যবস্থা ও ক্লাস পরিচালনার পরিকল্পনাও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কার করে জানাতে হবে—এমন দাবি তাদের।


৩. নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অনুপ্রবেশকালে মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিক আটক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় আজ দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিককে আটক করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সংঘাতপীড়িত এলাকা থেকে পালিয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ কাগজ–পত্র ছাড়াই তারা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে টহলদল তাদের আটক করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবিক দিক এবং নিরাপত্তা—দুই দিক বিবেচনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় গুলিবর্ষণ ও গোলার শব্দ শোনা যাওয়ায় তারা সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকেন। স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এ অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।


৪. নবান্নের ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা, গ্রামে উৎসবের আমেজ

দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় আমন মৌসুমের ধান কেটে ঘরে তোলার ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। খেত থেকে ধান কেটে মাথায় করে বাড়ি ফেরা কৃষক, পরিবার-পরিজনের সবাই মিলে মাঠে ধান মাড়াই আর সড়কজুড়ে ধানের আঁটি শুকানোর ছবি– সব মিলিয়ে নবান্নের মৌসুমি উৎসব ফুটে উঠেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

বেশ কয়েক বছর ধরে উৎপাদন খরচ, সার–বীজের দাম ও শ্রমিক সংকটে কৃষকরা চাপের মধ্যে থাকলেও নতুন ধানের হাসি তাদের মুখে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। স্থানীয় বাজারে নতুন ধান আর চাল উঠতে শুরু করলে শহর–গ্রামের ভোক্তাদেরও কিছুটা দাম কমার আশায় বুক বাঁধছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঠে ভালো ফলন হলেও সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের লাভ থাকে সীমিত। তাই ফসল ঘরে তোলার এই সময়টি সরকারের ক্রয়নীতি, ধান সংগ্রহ ও গুদাম ব্যবস্থাপনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।


৫. দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি

চট্টগ্রামে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ও এক গ্রাহকের বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুযায়ী, জাল কাগজপত্র ও অনিয়মের মাধ্যমে ঋণগ্রহণ ও অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

অন্যদিকে একই জেলায় হাটহাজারীর লালিয়ারহাট এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহত হয় বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

দুই ঘটনাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, একদিকে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ঘাটতি, অন্যদিকে সড়কে নৈরাজ্য—উন্নয়নযাত্রার পাশাপাশি এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত ও কঠোর নজরদারি জরুরি।


রাজনীতি

১. শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে বিতর্ক, প্রমাণ–রাজনীতি–ষড়যন্ত্রের তর্কযুদ্ধ

১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ঘিরে আজও দেশের রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা চলছে। প্রথম আলোর এক কলামে বলা হয়েছে—যে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা নিজেই চালু করেছিলেন যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য, সেই আদালতেই তার বিচার হওয়ায় অনেকে এটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করলেও রায়ের সঙ্গে যুক্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্যগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

কলামটিতে উল্লেখ করা হয়, রায়কে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; জনগণ জানতে চায়, আদালতের সামনে থাকা প্রমাণগুলো কতটা শক্তিশালী এবং এগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না। একই সঙ্গে আদালতের স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক মান এবং আপিল প্রক্রিয়া—সব কিছুর ওপর আলোচনা হচ্ছে।

এই রায়কে ঘিরে সরকার-বিরোধী ও সরকারপন্থি রাজনৈতিক শক্তি মাঠে–মিডিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। ফলে, আগামী নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ইস্যু ভোটারদের মানসিকতা ও জোট–বিন্যাসে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


২. ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলল এনসিপি

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এখনো তৈরি হয়নি। ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন, সরকার ও প্রশাসন—তিন পক্ষের আচরণে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার যে দৃশ্যমান প্রমাণ থাকা দরকার, তা দেখা যাচ্ছে না।

নাহিদ ইসলামের দাবি, বিরোধী দল ও নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কর্মসূচি পালনে পুলিশি বাধা, মামলা ও গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না। তিনি আন্তর্জাতিক মহল ও কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেও এই উদ্বেগ তুলে ধরার ইঙ্গিত দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নতুন নতুন দল ও নাগরিক প্ল্যাটফর্ম যখন নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে, তখন প্রশাসনের আচরণ–বিধি ও ক্ষমতার ভারসাম্য দেখানোর ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় পরীক্ষা তৈরি হয়েছে।


৩. ড. ইউনূসের নেতৃত্বে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন’ হবে–বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশা

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক যুগান্তরে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। তাঁর মন্তব্য, ‘আওয়ামী প্রেতাত্মাদের’ সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা সফল হবে না, জনগণ শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু ভোট চায়।

একই দিন অন্য এক খবরে জানা যায়, বিএনপি ঘনিষ্ঠ মহলেও এই বার্তা জোরালোভাবে প্রচার হচ্ছে যে আন্তর্জাতিক মহলের ওপর আস্থা রেখেই তারা নির্বাচনী রোডম্যাপ ঠিক করছে। ফলে, নির্বাচন–পরবর্তী ক্ষমতার সমীকরণে ড. ইউনূসের ভূমিকাও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, যে কোনো সরকারের উপরই জনগণের প্রত্যক্ষ জবাবদিহি না থাকলে, দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ‘মুক্তি’র গল্প নির্মাণ না করে, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ার কথাটাই বেশি জরুরি।


৪. কারা পাবে আওয়ামী লীগের ‘ভোট ব্যাংক’?—বিএনপি না জামায়াত

যুগান্তরের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—প্রধান দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতার বাইরে, সে ক্ষেত্রে তাদের ঐতিহ্যগত ভোট ব্যাংক কতটা বিএনপি আর কতটা জামায়াতের দিকে যাবে? প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমানকে আদর্শ নেতা হিসেবে মানা আওয়ামী ঘরানার একাংশ কখনো জামায়াতকে ভোট দেবে না; তারা বিএনপির প্রতীককেই তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য বিকল্প ভাবছেন।

অন্যদিকে, যারা শেখ হাসিনাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে আস্থাশীল ছিলেন, তাদের একাংশের মধ্যে হতাশা থাকলেও অনেকেই নেত্রীর নির্দেশের ওপর নির্ভর করবেন—তিনি যদি নির্দিষ্ট কোনো দলকে ভোট দিতে বলেন বা ভোট বর্জনের আহ্বান জানান, তা–ই অনুসরণ করবেন। আরেক অংশ নিজেদের এলাকার নিরাপত্তা ও স্থানীয় সমীকরণের কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই জটিল সমীকরণের মধ্যে জামায়াত প্রভাবিত কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের একাংশের ভোট জামায়াতের প্রতীকে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, আগামী নির্বাচনে ‘ভোট ট্রান্সফার’ রাজনীতির নতুন নাটকীয়তা তৈরি করতে পারে।


৫. আলেম–ওলামাদের সমর্থন চাইলো বিএনপি নেতৃত্ব, নতুন জোট ঘোষণার আভাস

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনে আলেম–ওলামাদের দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন বলে জানিয়েছে যুগান্তর। তিনি ‘ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারের পাশাপাশি ইমাম–খতিবদের জন্য আলাদা সার্ভিস রুল তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন—যা আজকের আরেকটি প্রতিবেদনে বিএনপির পক্ষ থেকে পুনরুল্লেখ করা হয়।

একই দিনে আরেক খবরে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২৫ নভেম্বর নতুন এক রাজনৈতিক জোট ঘোষণা করবেন মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রায়ের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই করলে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না। জাতীয় রাজনীতিতে ‘গুণগত পরিবর্তন’ আনার কথা বলেও তিনি স্বাধীন ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন।

এসব ইঙ্গিত বলছে, কেবল প্রচলিত বড় দল নয়, ইসলামপন্থী গোষ্ঠী, পেশাজীবী, তরুণ ও নাগরিক প্ল্যাটফর্ম—সবকে মিলিয়ে নতুন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। নির্বাচনের আগে শেষ কয়েক সপ্তাহেই এই সমীকরণ কতটা গুছিয়ে উঠতে পারে, তা–ই এখন দেখার বিষয়।


অর্থনীতি

১. ‘সস্তা শ্রমনির্ভর’ শক্তি ব্যবস্থায় আটকে আছে অর্থনীতি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি মিশ্রণ দেখালে বোঝা যায়—অর্থনীতি এখনো মূলত সস্তা শ্রমনির্ভর, উচ্চমূল্য সংযোজনী শিল্পে রূপান্তর যথেষ্ট হয়নি। শিল্পখাতের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় বিনিয়োগ বৈচিত্র্যও সীমিত পর্যায়ে আছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাস–নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র, আমদানি করা জ্বালানি ও মেয়াদোত্তীর্ণ চুক্তিসহ নানা জটিলতা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে রাজস্ব ও ঋণ–দুই দিকেই চাপ বাড়ার আশঙ্কা আছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল পোশাক খাত ও প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে দীর্ঘদিন অর্থনীতি চালানো সম্ভব নয়। উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, দক্ষ মানবসম্পদ ও নীতি–স্থিতিশীলতা—এই তিন ক্ষেত্রেই দ্রুত উন্নতি না ঘটলে ‘মধ্য আয়ের ফাঁদ’ থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।


২. ভুটানের সঙ্গে প্রথম ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের পথে বাংলাদেশ

ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের বৈঠকে দুদেশের বর্তমান প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্টকে (পিটিএ) ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টে (এফটিএ) রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিডিনিউজ। ভুটান চায়, বাংলাদেশ যেন তাদের সঙ্গে প্রথম এফটিএ স্বাক্ষর করে।

ড. ইউনূস বলেছেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভুটানকে ‘কী পার্টনার’ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। এফটিএ হলে ভুটানের বিদ্যুৎ, কৃষিপণ্য ও পর্যটন খাত এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ ও সেবা খাত—দু’দিকেই সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক বাণিজ্য এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এ ধরনের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হলে লজিস্টিক–খরচ কমার পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পর্কও উষ্ণ হয়—যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।


৩. চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে শ্রমিক–বাম জোটের অবরোধ সমর্থন, ‘সার্বভৌমত্ব’ বিতর্ক

একদিকে সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করছে দক্ষতা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে, অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠন ও বাম গণজোট এটিকে ‘সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ বলে দাবি করছে। বিডিনিউজের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং লেফট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বন্দর অবরোধ কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, বিদেশি অপারেটর এলে স্থানীয় শ্রমিকদের চাকরি ও মজুরি কাঠামো প্রশ্নের মুখে পড়বে, পাশাপাশি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ দেশের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে আধুনিক প্রযুক্তি, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা ও সময়–মতো কার্গো হ্যান্ডলিং নিশ্চিত না করলে রপ্তানিমুখী খাত বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।

ফলে, ‘রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ’ বনাম ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা’—এই দুই যুক্তির মধ্যে সমঝোতামূলক সমাধান খুঁজে পাওয়া এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।


৪. আজকের ডলার ও স্বর্ণের দাম, টাকার ওপর চাপ

যুগান্তরের অর্থ-বিষয়ক পাতায় প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলার কেনার দাম ১২২ টাকা ৫২ পয়সা ও বিক্রির দাম ১২২ টাকা ৫৯ পয়সা। ইউরো, পাউন্ডসহ অন্যান্য মুদ্রার ক্ষেত্রেও টাকার বিপরীতে উচ্চ বিনিময়হার বহাল আছে।

একই পত্রিকার আরেক খবরে দেখা যায়, বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি ১,৩৫৩ টাকা কমালেও এখনো ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম লাখ টাকা পেরিয়ে আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ডলার–দাম আমদানি–নির্ভর পণ্যের মূল্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, আর উচ্চ স্বর্ণ–দাম সঞ্চয়মুখী জনগণের জন্য বাড়তি বোঝা। দীর্ঘদিন ধরে আমদানি বিল, রপ্তানি আয়ের বৈষম্য ও বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ—সব মিলিয়ে টাকার ওপর চাপ বাড়ছে, যা মুদ্রাস্ফীতিতেও প্রভাব ফেলছে।


৫. COP৩০ জলবায়ু চুক্তি ও বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে নতুন অনিশ্চয়তা

ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন COP৩০–এর শেষ পর্যায়ে কঠিন দর-কষাকষির পর যে সমঝোতা তৈরি হয়েছে, তা ‘নাজুক ঐকমত্য’ বলে উল্লেখ করেছে বিডিনিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু–অর্থায়ন ও নির্গমন কমানোর ব্যাপারে কিছু অঙ্গীকার থেকে পিছু হটায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর হতাশা বেড়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জলবায়ু–অর্থায়ন বাস্তবে কতটা পাওয়া যাবে, তা অনিশ্চিত। অথচ উপকূলরক্ষা, ঘূর্ণিঝড়–বন্যা মোকাবিলা ও কৃষি–খাতে অভিযোজনের জন্য আগামী দশকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটে বিদেশি অনুদানের পাশাপাশি নিজস্ব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সবুজ বন্ড এবং বেসরকারি খাতকে জলবায়ু–সহনশীল প্রকল্পে অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া—এসব কৌশল এখন আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠছে।


আন্তর্জাতিক

১. তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের অভিযোগ করল চীন

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ‘মারাত্মক ভুল সংকেত’ এবং এটি এমন এক লাল দাগ অতিক্রম করেছে, যা স্পর্শ করা উচিত ছিল না। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে বিডিনিউজ ও রয়টার্স জানায়, এই ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক সপ্তাহ ধরে টানটান অবস্থায় রয়েছে।

ওয়াং ইয়ের ভাষ্য, জাপানকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী শান্তিচুক্তি ও এক–চীন নীতির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। অন্যথায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র–চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে জাপানের কূটনৈতিক অবস্থান আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এ ধরনের বক্তব্য শুধু টোকিও–বেইজিং সম্পর্কেই নয়, পুরো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।


২. ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প–প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে জেনিভায় আলাপ

জেনিভায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পক্ষ ‘খুব আশাবাদী’ যে দ্রুতই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে, তবে ইউরোপের অনেক নেতা এখনো পরিকল্পনাটিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এই পরিকল্পনা রাশিয়ার জন্য অতিরিক্ত ছাড় তৈরি করতে পারে এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নিশ্চয়তা নাও দিতে পারে।

বাংলাদেশসহ ছোট ও মধ্যম আকারের দেশগুলোর জন্য এ ধরনের সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য–বাজারে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এখনো কাটেনি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দ্রব্যমূল্য, জাহাজ ভাড়া ও সরবরাহ–শৃঙ্খল আবারও অস্থির হতে পারে।


৩. গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মাঝেই সেনা কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করল ইসরায়েল

রয়টার্সের খবরে জানা যায়, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে কয়েকজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও কিছু কর্মকর্তাকে তিরস্কার করেছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হামাসের একটি প্রতিনিধি দল কায়রোতে মিসরের গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামরিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করা হলেও গাজায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক চাপ থেকে এখনো বাঁচতে পারছে না ইসরায়েল। যুদ্ধের রাজনৈতিক ও আইনি হিসাব–নিকাশ আগামী কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক আদালত ও কূটনৈতিক টেবিলে বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


৪. স্লোভেনিয়ায় গণভোটে বাতিল হলো টার্মিনালি অসুস্থদের ‘সহায়তা আত্মহত্যা’ আইন

স্লোভেনিয়ায় টার্মিনালি অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ‘সহায়তা আত্মহত্যা’ বৈধ করার যে আইন পাস হয়েছিল, তা গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির জনগণ। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনটির সমর্থকেরা বলছিলেন—এটি মানবিকতার প্রশ্ন; বিপরীতপক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলোর আশঙ্কা ছিল—এর অপব্যবহার হতে পারে, আর জীবন রক্ষার চেয়ে জীবনের ইতি টানার সংস্কৃতি জোরালো হবে।

এই ফলাফল ইউরোপে স্বাস্থ্যনীতি ও নৈতিক রাজনীতির প্রশ্নে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে বয়স্ক জনসংখ্যা, দীর্ঘদিনের অসুখ আর স্বাস্থ্যব্যয়ের চাপ; অন্যদিকে মানবজীবনের অনন্য মূল্য—এই দ্বন্দ্ব আগামীদিনে আরও দেশকে একই ধরনের গণভোট বা নীতিনির্ধারণে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


৫. নারী নির্যাতন বন্ধে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ

ফ্রান্সজুড়ে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেছে নারীর প্রতি সহিংসতা ও femicide বন্ধের দাবিতে। দ্য ডেইলি স্টারের উদ্ধৃত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবাদকারীরা কঠোর আইন, দ্রুত বিচার ও যথেষ্ট আশ্রয়কেন্দ্র–সহ সুরক্ষা ব্যবস্থা বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন।

ফ্রান্সে প্রতিবছর সঙ্গীর হাতে বহু নারী নিহত হন—এই পরিসংখ্যান সামনে রেখে সংগঠকরা বলছেন, কেবল আইনি কাঠামো নয়, সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে হবে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আন্দোলন স্মরণ করিয়ে দেয়, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা এখন সারাবিশ্বেই রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।


খেলাধুলা

১. এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস ফাইনালে পাকিস্তান ‘এ’–এর দেওয়া ১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করছে বাংলাদেশ

কাতারের দোহায় এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের ফাইনালে পাকিস্তান শাহিনস (এ দল) মাত্র ১২৫ রানেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে। ফলে শিরোপা জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ১২৬ রান।

এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের গড়ে তোলা। তাই ফাইনালের এই ম্যাচ শুধু ট্রফি নয়, বরং ম্যানেজমেন্টকে নতুন কম্বিনেশন ও চাপ সামলানোর মানসিকতা পরীক্ষা করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ‘এ’ দলের সাফল্যই বলে দিচ্ছে—ব্যাকআপ বেঞ্চ ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভালো করতে চাইলে এমনই ধারাবাহিক দ্বিতীয় সারির পারফরম্যান্স দরকার।


২. ব্রুনেইর বিপক্ষে জয় চোখে, ফিফা র‍্যাঙ্কিং উন্নত করার সুযোগ

ফুটবলে বাংলাদেশ জাতীয় দল আজ ব্রুনেইয়ের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা এটিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিং উন্নত করার বাস্তব সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

দলের ভেতরের খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আক্রমণভাগে কিছু নতুন কম্বিনেশন ও তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। একই সঙ্গে রক্ষণভাগেও কমপ্যাক্ট থাকা ও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা—এই দুই জায়গায় বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে বড় সাফল্য না আসলেও প্রতিবেশী দলগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ফল করতে পারলে আঞ্চলিক টুর্নামেন্টগুলোতে আবারও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরতে পারবে বলে আশাবাদী সমর্থকেরা।


৩. উত্তর লন্ডন ডার্বিতে আর্সেনালের দুর্দান্ত জয়, ইজে’র হ্যাটট্রিক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বহুল প্রতীক্ষিত উত্তর লন্ডন ডার্বিতে টটেনহ্যামকে ৪–১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্সেনাল। ম্যাচে মধ্যমাঠের তারকা ইবেরেচি ইজে হ্যাটট্রিক করে আলো কেড়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।

এই জয়ে শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও পোক্ত করলো আর্সেনাল। সমালোচকেরা বলছেন, আগে যেখানে বড় ম্যাচে মানসিক দুর্বলতায় ভুগত দলটি, এখন সেখানে আত্মবিশ্বাস ও স্কোয়াড–ডেপথ—দু’টিই তাদের পক্ষে কাজ করছে।

টটেনহ্যামের জন্য এই হার আবারও রক্ষণভাগের দুর্বলতা ও বড় ম্যাচে ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনার ঘাটতি সামনে এনেছে। সমর্থকেরা এখনই কৌশলগত পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন।


৪. টানা ব্যর্থতার দায় নিলেন লিভারপুল কোচ স্লট

গত ১১ ম্যাচের আটটিতেই হার—এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর লিভারপুলের কোচ আরনে স্লট সরাসরি নিজেরই ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, দল গঠন ও কৌশল নির্বাচন–দু’দিকেই তিনি সঠিক ভারসাম্য এনে দিতে পারেননি।

ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর জন্য দীর্ঘ মৌসুমে আঘাত, ক্লান্তি ও স্কোয়াড রোটেশন সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ। লিভারপুলের চলতি মৌসুম অনেকটাই দেখিয়ে দিচ্ছে—এক যুগের সফলতা শেষে পুনর্গঠনের পর্যায়ে ক্লাবটি এখন কঠিন সময় পার করছে।

ক্লাব–ব্যবস্থাপনা যদি দ্রুত ট্রান্সফার নীতি ও কোচিং কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন না আনে, তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।


৫. পার্থে দুই দিনের মধ্যেই ধস, ‘ব্রেইনলেস’ ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচনায় ইংল্যান্ড

অস্ট্রেলিয়ার পার্থে মাত্র দুই দিনের মাথায় টেস্ট হেরে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল সমালোচনার ঝড়ের মুখে। সাবেক ক্রিকেটাররা দলের ব্যাটিংকে ‘ব্রেইনলেস’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, আগ্রাসী ক্রিকেটের নামে পরিকল্পনাহীন শট বেছে নেওয়া এখন দলের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটে ‘বাজবল’ ধারা নিয়ে অনেক প্রশংসা থাকলেও, কঠিন কন্ডিশনে পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাটিং না করলে এই কৌশলই দলকে ব্যুমেরাং হতে পারে—এমন সতর্কবার্তাও নতুন নয়। পার্থের ম্যাচ সেই আশঙ্কাকেই সত্যি করল।

বাংলাদেশসহ ক্রিকেটপ্রেমী দেশে এই বিতর্ক ভালোভাবে দেখা হচ্ছে—কারণ, আগ্রাসন আর দায়িত্ববোধের সঠিক ভারসাম্য না থাকলে যে কোনো দলের জন্যই বড় লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।


প্রযুক্তি

১. দুর্যোগের সময় ফেসবুক ‘সেফটি চেক’ কীভাবে কাজ করে

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর অনেকেই আবার জানতে চাইছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ‘সেফটি চেক’ ফিচার আসলে কীভাবে কাজ করে। প্রথম আলোর প্রযুক্তি পাতার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় সংকটের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আশপাশে থাকা ব্যবহারকারীদের কাছে ফেসবুক নিজে থেকেই নোটিফিকেশন পাঠায়—তারা নিরাপদ আছেন কি না, সেটি জানিয়ে দিতে।

ব্যবহারকারী ‘আমি নিরাপদ’ বেছে নিলে তা তাঁর বন্ধু–পরিজনের নিউজফিডে চলে যায়, ফলে দ্রুত খবর পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের ডিজিটাল টুল বড় সহায়ক—তবে এর সঙ্গে সমন্বিত হতে হবে সরকারি হটলাইন, সিভিল ডিফেন্স, রেড ক্রিসেন্টসহ অন্যান্য সংস্থার নিজস্ব অ্যাপ ও ডাটাবেসেরও।


২. মেট্রোরেল বিয়ারিং প্যাডের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্তে তরুণের উদ্ভাবন

ঢাকার মেট্রোরেল কাঠামোর নিরাপত্তা বাড়াতে ‘মেট্রোরেল বিয়ারিং প্যাড সেফটি মনিটরিং সিস্টেম’ নামের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইরান সরদার। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইওটি–ভিত্তিক সিস্টেমে বিয়ারিং প্যাডে সেন্সর লাগিয়ে কম্পন বা কাঠামোগত কোনো অস্বাভাবিকতা হলেই নিয়ন্ত্রণকক্ষে অ্যালার্ম পাঠানো যায়।

উদ্ভাবকের ভাষ্য, কোন পিলারের প্যাড সরে গেছে বা অতিরিক্ত চাপ পড়ছে—সিস্টেমটি তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারবে। সময়মতো মেরামত করলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

ঢাকার মতো ভূমিকম্পঝুঁকিপূর্ণ শহরে গণপরিবহন অবকাঠামোকে নিরাপদ রাখতে এমন স্থানীয় উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়া গেলে তা শুধু নিরাপত্তাই নয়, ভবিষ্যতে বহির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তি–রপ্তানির সুযোগও তৈরি করতে পারে।


৩. চট্টগ্রামে এসইও ও এআই সম্মেলন, ২৫ জেলা থেকে পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ

চট্টগ্রামে ২৫ জেলা থেকে আগত এসইও পেশাজীবী, ফ্রিল্যান্সার, আইটি উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল মার্কেটারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–কেন্দ্রিক সম্মেলন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ভবিষ্যতের সার্চ অ্যালগরিদম, কনটেন্ট অপটিমাইজেশন, এসইও–তে এআই ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কেস স্টাডি নিয়ে একাধিক সেশন হয়।

দেশে ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন উদ্যোক্তা তৈরির যে ঢেউ তৈরি হয়েছে, এই ধরনের সম্মেলন সেটিকে আরও পেশাদার ও তথ্যনির্ভর পথে নিয়ে যেতে পারে।

এ ধরনের আয়োজন শুধু বড় শহরে নয়, উপজেলা–স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত হলে তরুণ প্রজন্মের জন্য বাস্তব দক্ষতা অর্জন ও আয়ের নতুন পথ খুলে যাবে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।


৪. অপতথ্য ও এআই–এর যুগে মানুষের আস্থা অর্জনই বড় চ্যালেঞ্জ

বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫–এর এক আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এতসব প্রযুক্তির যুগে অপতথ্য এত দ্রুত ছড়াচ্ছে যে শুধু আইন করে এটাকে ঠেকানো যাবে না; প্রয়োজন মানুষের আস্থা অর্জন ও অধিকতর স্বচ্ছতা। প্রথম আলোর প্রতিবেদন মতে, অংশগ্রহণকারীরা আইন, নীতি প্রণয়নে মানবাধিকারের সুরক্ষা ও অংশীদারদের সতর্কতার ওপর জোর দিয়েছেন।

তাদের মতে, রাষ্ট্র বা করপোরেট কেউই যেন প্রযুক্তিকে নাগরিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার বানিয়ে না ফেলে—এটি নিশ্চিত করার জন্য নীতি প্রণয়নের সময় নাগরিক সংগঠন, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের অংশগ্রহণ জরুরি।

বাংলাদেশসহ অনেক দেশে ভুয়া তথ্য, ডিপফেক ভিডিও এবং বট–নিয়ন্ত্রিত প্রচারণা ইতোমধ্যে নির্বাচন ও সামাজিক সহাবস্থানে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তাই ‘ডিজিটাল সাক্ষরতা’ এখন আর শুধু প্রযুক্তি বোঝার বিষয় নয়, গণতান্ত্রিক টিকে থাকার গুরুত্বপূর্ণ শর্তেও পরিণত হয়েছে।


৫. সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর প্রভাব ‘গোপন’ করেছিল মেটা—অভিযোগ

বিডিনিউজ ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা নিজেদের অভ্যন্তরীণ গবেষণায় প্ল্যাটফরমের মানসিক স্বাস্থ্য–ঝুঁকির প্রমাণ পাওয়ার পরও সেই গবেষণা বন্ধ করে দেয় এবং ফলাফল গোপন রাখে—এমন অভিযোগ উঠেছে মার্কিন আদালতে।

গবেষণায় কিশোর–কিশোরীদের আত্মসম্মানবোধ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ওপর নেতিবাচক প্রভাবের ‘কারণমূলক’ প্রমাণ পাওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে এখন প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মুখে।

বাংলাদেশে ফেসবুক–নির্ভর সামাজিক যোগাযোগের ব্যাপ্তি এবং কনটেন্ট মডারেশনের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নীতিনির্ধারকদের জন্য এই মামলার ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে—বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় ভবিষ্যৎ নীতিতে।


বিনোদন

১. ‘চাঁদের আলো’ নির্মাতা শেখ নজরুল ইসলামের চলে যাওয়া

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘চাঁদের আলো’র নির্মাতা শেখ নজরুল ইসলাম আর নেই। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতরাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে প্রথম আলো।

নব্বই দশক থেকে যে সংখ্যক পরিচালক বাণিজ্যিক ও শৈল্পিকতার সমন্বয়ে দর্শকপ্রিয় সিনেমা বানিয়েছেন, শেখ নজরুল ইসলাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর পরিচালিত ছবিগুলোতে মধ্যবিত্ত জীবনের স্বপ্ন–দুঃখ, প্রেম ও সামাজিক দ্বন্দ্ব বারবার উঠে এসেছে।

সহশিল্পী ও ভক্তদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন—‘চাঁদের আলো’ এখন কেবল পর্দায় নয়, স্মৃতিতেই ভাসবে। তাঁর চলে যাওয়ায় বাংলা চলচ্চিত্র আরেকজন অভিজ্ঞ নির্মাতাকে হারাল।


২. প্রয়াত ‘মিস ইন্ডিয়া’ নাফিসা জোসেফকে ঘিরে স্মৃতিচারণ, আলোচনায় মানসিক স্বাস্থ্য

প্রথম আলোর এক বিনোদন প্রতিবেদন বলছে, প্রয়াত মডেল ও অভিনেত্রী, সাবেক ‘মিস ইন্ডিয়া’ নাফিসা জোসেফের ভিডিও ও স্মৃতিচারণ আবারও ভাইরাল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেক ভক্ত মনে করছেন, তিনি বেঁচে থাকলে আজ ভারতের বিনোদন দুনিয়ার শীর্ষ তারকাদের একজন হতে পারতেন।

এই আলোচনার মধ্য দিয়ে বিনোদন অঙ্গনে মানসিক স্বাস্থ্য, চাপ ও সম্পর্কজনিত সংকটের বিষয়গুলো আবারও সামনে আসছে। তারকাদের ঝলমলে জীবনযাত্রার আড়ালে যে একাকিত্ব, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ কাজ করে, তা নিয়ে নতুন প্রজন্ম আগের চেয়ে বেশি খোলামেলা কথা বলছে—এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


৩. ‘আগ্রা’ সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফাঁস, শিল্প বনাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিতর্ক

ভারতের আর্টহাউস সিনেমা ‘আগ্রা’ মুক্তির আগেই এর কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় আবারও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিনেত্রী রুহানি শর্মা এ বিষয়ে বলেন, ছবিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসা পেলেও শুধু কিছু দৃশ্য কেটে নিয়ে তা ভাইরাল করার মানে হলো চলচ্চিত্রের শিল্পমান ও সংবেদনশীলতা উপেক্ষা করা।

এটি শিল্পের স্বাধীনতা ও অভিনেতা–অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কোনো দৃশ্যের প্রেক্ষাপট ছাড়া টুকরো ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি বিকৃত হয় এবং শিল্পীকে অতিরিক্ত সামাজিক চাপের মুখে ফেলতে পারে—এই যুক্তিও এখন আলোচনায়।


৪. রুক্মিণীকে ছাড়া ‘দ্রৌপদী’ হবে না—পরিচালকের জোর দাবি

মহাভারত অবলম্বনে পরিকল্পিত সিনেমা ‘দ্রৌপদী’তে অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রকেই শিরোনাম চরিত্র হিসেবে চান পরিচালক রামকমল মুখোপাধ্যায়। যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে তাঁর ‘নটী বিনোদিনী’ ছবিতেও রুক্মিণী অভিনয় করেছেন; দর্শকের প্রতিক্রিয়া ও চরিত্রের প্রতি তাঁর প্রস্তুতিই পরিচালককে আবার তার দিকে ফিরিয়ে এনেছে।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে টালিউডের ভক্তদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও পরিচালক মনে করেন, নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য ‘পারফেক্ট কাস্টিং’ থাকলে, বহুমাত্রিক গল্পেও অভিনেতা–অভিনেত্রীর পুনরাবৃত্তি সমস্যা নয়। বরং এটা দর্শকের কাছেও এক ধরনের ধারাবাহিকতা তৈরি করে।


৫. অ্যান্ড্রু কিশোরকে শ্রদ্ধা, ইমরান–ন্যানসির নতুন গান

বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরকে শ্রদ্ধা জানাতে নতুন গান নিয়ে এসেছেন গায়ক ইমরান ও গায়িকা ন্যানসি। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, গানটির সুর ও গায়কিতে অ্যান্ড্রু কিশোরের জনপ্রিয় কয়েকটি চলচ্চিত্র–গানের আবহ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন শিল্পীরা।

গানটি যেন শুধু নস্টালজিয়া নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই যুগের গানের অনুভূতি পৌঁছে দেওয়ার একটি সেতুবন্ধন—এমনটাই মনে করছেন সংগীতপ্রেমীরা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ভিউ বাড়া ও শ্রোতাদের মন্তব্যেও সেটির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।


আবহাওয়া

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) সকাল ৬টার আবহাওয়ার চিত্র অনুযায়ী, আজ ২৩ নভেম্বর সারাদেশেই আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ছিল এবং বড় কোনো বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। রাত ও ভোরে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্যাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা অঞ্চলে আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি এবং সর্বনিম্ন প্রায় ১৯–২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস; আকাশ ছিল আংশিক মেঘলা থেকে মাঝারি রৌদ্রোজ্জ্বল। চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল আনুমানিক ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাতে কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে, তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল কম।

দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বলছে, নভেম্বর মাসে সাধারণত দেশের অধিকাংশ স্থানে শুষ্ক আবহাওয়া থাকে; দিনে হালকা গরম, রাতে মৃদু শীতের অনুভূতি থাকে—এই ধারা এখনো বজায় আছে। তবে বায়ুদূষণের মাত্রা বিশেষ করে ঢাকায় ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে; বিশেষজ্ঞরা মাস্ক ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান ও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অযথা বাইরে কম বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

[BBC Bangla, Prothom Alo, The Daily Star, BDNews24, Jugantor, Reuters, Al Jazeera, Dainik Ittefaq] ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত আজকের তথ্যের আলোকে সংকলিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Loading posts...